স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে টুকরো হয়ে যাওয়া পা ফিরে পেলো প্রৌঢ়া - The News Lion

স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মাধ্যমে টুকরো হয়ে যাওয়া পা ফিরে পেলো প্রৌঢ়া



দি নিউজ লায়নঃ    শেষ পর্যন্ত নানান জটিলতার মধ্যে দিয়ে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর মাধ্যমে ব্যয়বহুল অপারেশন করাতে পেরে হাসপাতালের বেডে শুয়ে সোমবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন কান্দির আন্দুলিয়া গ্রামের পৌঢ়া ছায়া ঘোষ। গত দুর্গাপূজাতে পরিবারের লোকের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে ঐ বৃদ্ধার  ডান পা ভেঙে কুচি কুচি হয়ে যায়। কিন্তু আর্থিক কারণে চিকিৎসা করাতে পারেননি প্রৌঢ়ার পরিবারের লোকজন। পায়ের অবস্থাও আস্তে আস্তে খারাপ হচ্ছিল। এমনকি পচন পর্যন্ত ধরে যায়।অবশেষে দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পাওয়ায় বহরমপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রৌঢ়ার অপারেশনের লক্ষাধিক টাকা বিল মেটানো হল ঐ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে। 


এদিন রাজ্য সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে কান্দি  আন্দুলিয়া গ্রামের ওই পরিবার। জানা গিয়েছে, প্রায় তিন মাস আগে ছায়াদেবী রাস্তার পাশের কংক্রিটের নালায় তিনি পড়ে পা ভেঙে যায়। প্রথমে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা পায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। সেখান থেকে তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকারিভাবে সেই সময় সেখানে পায়ের অপারেশন করা যায়নি।এরপর থেকে আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া ওই পরিবার কে হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে কোনওমতে চিকিৎসা চালাতে হচ্ছিল। প্রয়োজন ছিল জটিল অস্ত্রপচারের।যার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের খরচ প্রায় লক্ষাধিক টাকা। সেই খরচ  শোনার পর সেখানে চিকিৎসা করাতে পারেননি ছায়া ঘোষের পরিবার। 


এদিকে দিন দিন ছায়াদেবীর পায়ের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছিল। এদিন ছায়াদেবী জানান, প্রায় তিনমাস কোনও চিকিৎসা হয়নি। তার ফলে পা ফুলতে শুরু করেছিল। সবসময় যন্ত্রণা করত। পায়ে পচন ধরতে শুরু করেছে বলে চিকিৎসকরা জানান। কিন্তু চিকিৎসা করার মতো আমাদের আর্থিক ক্ষমতা ছিল না।এই সময় রাজ্য সরকারের দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের কার্ড তৈরির কাজ শুরু হয়"। প্রৌঢ়ার স্বামী দিলীপ ঘোষ বলেন, গত ১ ডিসেম্বর স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে আবেদনপত্র জমা দিই। এরপরই দিন কয়েক আগে ওই স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড হাতে এসে পৌঁছয়। তারপরেই স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার স্ত্রী ছায়া দেবী কে বহরমপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। 


সেখানেই অবশেষে এই ব্যয়বহুল জটিল পায়ের অপারেশন হয়। অপারেশনের পরে লক্ষাধিক টাকার খরচ হয়েছে বলে জানানো হয়। কিন্তু সেই টাকার পুরোটাই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে এদিন মেটানো হয়। প্রৌঢ়ার ছেলে গৌতম ঘোষ বলেন, আমরা ভাবতেই পারছিনা এত সহজে বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর মাধ্যমে আমার মায়ের জটিল অপারেশন করা সম্ভব হল শেষ পর্যন্ত"। এদিন স্থানীয় আন্দুলিয়া পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য গোপাল থাণ্ডার বলেন, আমি নিজে ওই মহিলাকে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি করিয়ে এসেছিলাম। প্রথমে পরিবারের লোকজন এভাবে সুযোগ পাওয়া যাবে বলে মানতে চাননি। পরে দেখেন যে, রাজ্য সরকার কথা রেখেছে তাতে ওই পরিবারটি বেঁচে গেল"।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.